সূরা As-Saffat (37) — সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো: আরবি পাঠ, অনুবাদ ও তাফসির
وَٱلصَّـٰٓفَّـٰتِ صَفّٗا ﴿1﴾
1. শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো
فَٱلزَّـٰجِرَٰتِ زَجۡرٗا ﴿2﴾
2. অতঃপর ধমকিয়ে ভীতি প্রদর্শনকারীদের
فَٱلتَّـٰلِيَٰتِ ذِكۡرًا ﴿3﴾
3. অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের
إِنَّ إِلَٰهَكُمۡ لَوَٰحِدٞ ﴿4﴾
4. নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক।
رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا وَرَبُّ ٱلۡمَشَٰرِقِ ﴿5﴾
5. তিনি আসমান সমূহ, যমীনও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের।
إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنۡيَا بِزِينَةٍ ٱلۡكَوَاكِبِ ﴿6﴾
6. নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।
وَحِفۡظٗا مِّن كُلِّ شَيۡطَٰنٖ مَّارِدٖ ﴿7﴾
7. এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلۡمَلَإِ ٱلۡأَعۡلَىٰ وَيُقۡذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٖ ﴿8﴾
8. ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
دُحُورٗاۖ وَلَهُمۡ عَذَابٞ وَاصِبٌ ﴿9﴾
9. ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি।
إِلَّا مَنۡ خَطِفَ ٱلۡخَطۡفَةَ فَأَتۡبَعَهُۥ شِهَابٞ ثَاقِبٞ ﴿10﴾
10. তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
فَٱسۡتَفۡتِهِمۡ أَهُمۡ أَشَدُّ خَلۡقًا أَم مَّنۡ خَلَقۡنَآۚ إِنَّا خَلَقۡنَٰهُم مِّن طِينٖ لَّازِبِۭ ﴿11﴾
11. আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।
بَلۡ عَجِبۡتَ وَيَسۡخَرُونَ ﴿12﴾
12. বরং আপনি বিস্ময় বোধ করেন আর তারা বিদ্রুপ করে।
وَإِذَا ذُكِّرُواْ لَا يَذۡكُرُونَ ﴿13﴾
13. যখন তাদেরকে বোঝানো হয়, তখন তারা বোঝে না।
وَإِذَا رَأَوۡاْ ءَايَةٗ يَسۡتَسۡخِرُونَ ﴿14﴾
14. তারা যখন কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।
وَقَالُوٓاْ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا سِحۡرٞ مُّبِينٌ ﴿15﴾
15. এবং বলে, কিছুই নয়, এযে স্পষ্ট যাদু।
أَءِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابٗا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبۡعُوثُونَ ﴿16﴾
16. আমরা যখন মরে যাব, এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلۡأَوَّلُونَ ﴿17﴾
17. আমাদের পিতৃপুরুষগণও কি
قُلۡ نَعَمۡ وَأَنتُمۡ دَٰخِرُونَ ﴿18﴾
18. বলুন, হ্যাঁ এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত।
فَإِنَّمَا هِيَ زَجۡرَةٞ وَٰحِدَةٞ فَإِذَا هُمۡ يَنظُرُونَ ﴿19﴾
19. বস্তুতঃ সে উত্থান হবে একটি বিকট শব্দ মাত্র-যখন তারা প্রত্যক্ষ করতে থাকবে।
وَقَالُواْ يَٰوَيۡلَنَا هَٰذَا يَوۡمُ ٱلدِّينِ ﴿20﴾
20. এবং বলবে, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটাই তো প্রতিফল দিবস।
هَٰذَا يَوۡمُ ٱلۡفَصۡلِ ٱلَّذِي كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ ﴿21﴾
21. বলা হবে, এটাই ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে।
۞ٱحۡشُرُواْ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ وَأَزۡوَٰجَهُمۡ وَمَا كَانُواْ يَعۡبُدُونَ ﴿22﴾
22. একত্রিত কর গোনাহগারদেরকে, তাদের দোসরদেরকে এবং যাদের এবাদত তারা করত।
مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهۡدُوهُمۡ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلۡجَحِيمِ ﴿23﴾
23. আল্লাহ ব্যতীত। অতঃপর তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে
وَقِفُوهُمۡۖ إِنَّهُم مَّسۡـُٔولُونَ ﴿24﴾
24. এবং তাদেরকে থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে
مَا لَكُمۡ لَا تَنَاصَرُونَ ﴿25﴾
25. তোমাদের কি হল যে, তোমরা একে অপরের সাহায্য করছ না
بَلۡ هُمُ ٱلۡيَوۡمَ مُسۡتَسۡلِمُونَ ﴿26﴾
26. বরং তারা আজকের দিনে আত্নসমর্পণকারী।
وَأَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ يَتَسَآءَلُونَ ﴿27﴾
27. তারা একে অপরের দিকে মুখ করে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
قَالُوٓاْ إِنَّكُمۡ كُنتُمۡ تَأۡتُونَنَا عَنِ ٱلۡيَمِينِ ﴿28﴾
28. বলবে, তোমরা তো আমাদের কাছে ডান দিক থেকে আসতে।
قَالُواْ بَل لَّمۡ تَكُونُواْ مُؤۡمِنِينَ ﴿29﴾
29. তারা বলবে, বরং তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না।
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيۡكُم مِّن سُلۡطَٰنِۭۖ بَلۡ كُنتُمۡ قَوۡمٗا طَٰغِينَ ﴿30﴾
30. এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কতৃত্ব ছিল না, বরং তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
فَحَقَّ عَلَيۡنَا قَوۡلُ رَبِّنَآۖ إِنَّا لَذَآئِقُونَ ﴿31﴾
31. আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে। আমাদেরকে অবশই স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।
فَأَغۡوَيۡنَٰكُمۡ إِنَّا كُنَّا غَٰوِينَ ﴿32﴾
32. আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। কারণ আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম।
فَإِنَّهُمۡ يَوۡمَئِذٖ فِي ٱلۡعَذَابِ مُشۡتَرِكُونَ ﴿33﴾
33. তারা সবাই সেদিন শান্তিতে শরীক হবে।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفۡعَلُ بِٱلۡمُجۡرِمِينَ ﴿34﴾
34. অপরাধীদের সাথে আমি এমনি ব্যবহার করে থাকি।
إِنَّهُمۡ كَانُوٓاْ إِذَا قِيلَ لَهُمۡ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسۡتَكۡبِرُونَ ﴿35﴾
35. তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য েনই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓاْ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٖ مَّجۡنُونِۭ ﴿36﴾
36. এবং বলত, আমরা কি এক উম্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব।
بَلۡ جَآءَ بِٱلۡحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ ﴿37﴾
37. না, তিনি সত্যসহ আগমন করেছেন এবং রসূলগণের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
إِنَّكُمۡ لَذَآئِقُواْ ٱلۡعَذَابِ ٱلۡأَلِيمِ ﴿38﴾
38. তোমরা অবশ্যই বেদনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করবে।
وَمَا تُجۡزَوۡنَ إِلَّا مَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ ﴿39﴾
39. তোমরা যা করতে, তারই প্রতিফল পাবে।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِينَ ﴿40﴾
40. তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর বাছাই করা বান্দা।
أُوْلَـٰٓئِكَ لَهُمۡ رِزۡقٞ مَّعۡلُومٞ ﴿41﴾
41. তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি।
فَوَٰكِهُ وَهُم مُّكۡرَمُونَ ﴿42﴾
42. ফল-মূল এবং তারা সম্মানিত।
فِي جَنَّـٰتِ ٱلنَّعِيمِ ﴿43﴾
43. নেয়ামতের উদ্যানসমূহ।
عَلَىٰ سُرُرٖ مُّتَقَٰبِلِينَ ﴿44﴾
44. মুখোমুখি হয়ে আসনে আসীন।
يُطَافُ عَلَيۡهِم بِكَأۡسٖ مِّن مَّعِينِۭ ﴿45﴾
45. তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ পানপাত্র।
بَيۡضَآءَ لَذَّةٖ لِّلشَّـٰرِبِينَ ﴿46﴾
46. সুশুভ্র, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।
لَا فِيهَا غَوۡلٞ وَلَا هُمۡ عَنۡهَا يُنزَفُونَ ﴿47﴾
47. তাতে মাথা ব্যথার উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না।
وَعِندَهُمۡ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرۡفِ عِينٞ ﴿48﴾
48. তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলোচনা তরুণীগণ।
كَأَنَّهُنَّ بَيۡضٞ مَّكۡنُونٞ ﴿49﴾
49. যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।
فَأَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ يَتَسَآءَلُونَ ﴿50﴾
50. অতঃপর তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
قَالَ قَآئِلٞ مِّنۡهُمۡ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٞ ﴿51﴾
51. তাদের একজন বলবে, আমার এক সঙ্গী ছিল।
يَقُولُ أَءِنَّكَ لَمِنَ ٱلۡمُصَدِّقِينَ ﴿52﴾
52. সে বলত, তুমি কি বিশ্বাস কর যে
أَءِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابٗا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَدِينُونَ ﴿53﴾
53. আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব
قَالَ هَلۡ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ ﴿54﴾
54. আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে উকি দিয়ে দেখতে চাও
فَٱطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِي سَوَآءِ ٱلۡجَحِيمِ ﴿55﴾
55. অপর সে উকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে।
قَالَ تَٱللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرۡدِينِ ﴿56﴾
56. সে বলবে, আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে।
وَلَوۡلَا نِعۡمَةُ رَبِّي لَكُنتُ مِنَ ٱلۡمُحۡضَرِينَ ﴿57﴾
57. আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম।
أَفَمَا نَحۡنُ بِمَيِّتِينَ ﴿58﴾
58. এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না।
إِلَّا مَوۡتَتَنَا ٱلۡأُولَىٰ وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِينَ ﴿59﴾
59. আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তি প্রাপ্তও হব না।
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ ﴿60﴾
60. নিশ্চয় এই মহা সাফল্য।
لِمِثۡلِ هَٰذَا فَلۡيَعۡمَلِ ٱلۡعَٰمِلُونَ ﴿61﴾
61. এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।
أَذَٰلِكَ خَيۡرٞ نُّزُلًا أَمۡ شَجَرَةُ ٱلزَّقُّومِ ﴿62﴾
62. এই কি উত্তম আপ্যায়ন, না যাক্কুম বৃক্ষ
إِنَّا جَعَلۡنَٰهَا فِتۡنَةٗ لِّلظَّـٰلِمِينَ ﴿63﴾
63. আমি যালেমদের জন্যে একে বিপদ করেছি।
إِنَّهَا شَجَرَةٞ تَخۡرُجُ فِيٓ أَصۡلِ ٱلۡجَحِيمِ ﴿64﴾
64. এটি একটি বৃক্ষ, যা উদগত হয় জাহান্নামের মূলে।
طَلۡعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ ﴿65﴾
65. এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত।
فَإِنَّهُمۡ لَأٓكِلُونَ مِنۡهَا فَمَالِـُٔونَ مِنۡهَا ٱلۡبُطُونَ ﴿66﴾
66. কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে।
ثُمَّ إِنَّ لَهُمۡ عَلَيۡهَا لَشَوۡبٗا مِّنۡ حَمِيمٖ ﴿67﴾
67. তদুপরি তাদেরকে দেয়া হবে। ফুটন্ত পানির মিশ্রণ
ثُمَّ إِنَّ مَرۡجِعَهُمۡ لَإِلَى ٱلۡجَحِيمِ ﴿68﴾
68. অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের দিকে।
إِنَّهُمۡ أَلۡفَوۡاْ ءَابَآءَهُمۡ ضَآلِّينَ ﴿69﴾
69. তারা তাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছিল বিপথগামী।
فَهُمۡ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمۡ يُهۡرَعُونَ ﴿70﴾
70. অতঃপর তারা তদের পদাংক অনুসরণে তৎপর ছিল।
وَلَقَدۡ ضَلَّ قَبۡلَهُمۡ أَكۡثَرُ ٱلۡأَوَّلِينَ ﴿71﴾
71. তাদের পূর্বেও অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হয়েছিল।
وَلَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا فِيهِم مُّنذِرِينَ ﴿72﴾
72. আমি তাদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনকারী প্রেরণ করেছিলাম।
فَٱنظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُنذَرِينَ ﴿73﴾
73. অতএব লক্ষ্য করুন, যাদেরকে ভীতিপ্রদর্শণ করা হয়েছিল, তাদের পরিণতি কি হয়েছে।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِينَ ﴿74﴾
74. তবে আল্লাহর বাছাই করা বান্দাদের কথা ভিন্ন।
وَلَقَدۡ نَادَىٰنَا نُوحٞ فَلَنِعۡمَ ٱلۡمُجِيبُونَ ﴿75﴾
75. আর নূহ আমাকে ডেকেছিল। আর কি চমৎকারভাবে আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম।
وَنَجَّيۡنَٰهُ وَأَهۡلَهُۥ مِنَ ٱلۡكَرۡبِ ٱلۡعَظِيمِ ﴿76﴾
76. আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে এক মহাসংকট থেকে রক্ষা করেছিলাম।
وَجَعَلۡنَا ذُرِّيَّتَهُۥ هُمُ ٱلۡبَاقِينَ ﴿77﴾
77. এবং তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম।
وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِي ٱلۡأٓخِرِينَ ﴿78﴾
78. আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে
سَلَٰمٌ عَلَىٰ نُوحٖ فِي ٱلۡعَٰلَمِينَ ﴿79﴾
79. বিশ্ববাসীর মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ ﴿80﴾
80. আমি এভাবেই সৎকর্ম পরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ﴿81﴾
81. সে ছিল আমার ঈমানদার বান্দাদের অন্যতম।
ثُمَّ أَغۡرَقۡنَا ٱلۡأٓخَرِينَ ﴿82﴾
82. অতঃপর আমি অপরাপর সবাইকে নিমজ্জত করেছিলাম।
۞وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِۦ لَإِبۡرَٰهِيمَ ﴿83﴾
83. আর নূহ পন্থীদেরই একজন ছিল ইব্রাহীম।
إِذۡ جَآءَ رَبَّهُۥ بِقَلۡبٖ سَلِيمٍ ﴿84﴾
84. যখন সে তার পালনকর্তার নিকট সুষ্ঠু চিত্তে উপস্থিত হয়েছিল
إِذۡ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوۡمِهِۦ مَاذَا تَعۡبُدُونَ ﴿85﴾
85. যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা কিসের উপাসনা করছ
أَئِفۡكًا ءَالِهَةٗ دُونَ ٱللَّهِ تُرِيدُونَ ﴿86﴾
86. তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত মিথ্যা উপাস্য কামনা করছ
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ﴿87﴾
87. বিশ্বজগতের পালনকর্তা সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি
فَنَظَرَ نَظۡرَةٗ فِي ٱلنُّجُومِ ﴿88﴾
88. অতঃপর সে একবার তারকাদের প্রতি লক্ষ্য করল।
فَقَالَ إِنِّي سَقِيمٞ ﴿89﴾
89. এবং বললঃ আমি পীড়িত।
فَتَوَلَّوۡاْ عَنۡهُ مُدۡبِرِينَ ﴿90﴾
90. অতঃপর তারা তার প্রতি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল।
فَرَاغَ إِلَىٰٓ ءَالِهَتِهِمۡ فَقَالَ أَلَا تَأۡكُلُونَ ﴿91﴾
91. অতঃপর সে তাদের দেবালয়ে, গিয়ে ঢুকল এবং বললঃ তোমরা খাচ্ছ না কেন
مَا لَكُمۡ لَا تَنطِقُونَ ﴿92﴾
92. তোমাদের কি হল যে, কথা বলছ না
فَرَاغَ عَلَيۡهِمۡ ضَرۡبَۢا بِٱلۡيَمِينِ ﴿93﴾
93. অতঃপর সে প্রবল আঘাতে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
فَأَقۡبَلُوٓاْ إِلَيۡهِ يَزِفُّونَ ﴿94﴾
94. তখন লোকজন তার দিকে ছুটে এলো ভীত-সন্ত্রস্ত পদে।
قَالَ أَتَعۡبُدُونَ مَا تَنۡحِتُونَ ﴿95﴾
95. সে বললঃ তোমরা স্বহস্ত নির্মিত পাথরের পূজা কর কেন
وَٱللَّهُ خَلَقَكُمۡ وَمَا تَعۡمَلُونَ ﴿96﴾
96. অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।
قَالُواْ ٱبۡنُواْ لَهُۥ بُنۡيَٰنٗا فَأَلۡقُوهُ فِي ٱلۡجَحِيمِ ﴿97﴾
97. তারা বললঃ এর জন্যে একটি ভিত নির্মাণ কর এবং অতঃপর তাকে আগুনের স্তুপে নিক্ষেপ কর।
فَأَرَادُواْ بِهِۦ كَيۡدٗا فَجَعَلۡنَٰهُمُ ٱلۡأَسۡفَلِينَ ﴿98﴾
98. তারপর তারা তার বিরুদ্ধে মহা ষড়যন্ত্র আঁটতে চাইল, কিন্তু আমি তাদেরকেই পরাভূত করে দিলাম।
وَقَالَ إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّي سَيَهۡدِينِ ﴿99﴾
99. সে বললঃ আমি আমার পালনকর্তার দিকে চললাম, তিনি আমাকে পথপ্রদর্শন করবেন।
رَبِّ هَبۡ لِي مِنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ ﴿100﴾
100. হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎপুত্র দান কর।
فَبَشَّرۡنَٰهُ بِغُلَٰمٍ حَلِيمٖ ﴿101﴾
101. সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعۡيَ قَالَ يَٰبُنَيَّ إِنِّيٓ أَرَىٰ فِي ٱلۡمَنَامِ أَنِّيٓ أَذۡبَحُكَ فَٱنظُرۡ مَاذَا تَرَىٰۚ قَالَ يَـٰٓأَبَتِ ٱفۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُۖ سَتَجِدُنِيٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّـٰبِرِينَ ﴿102﴾
102. অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।
فَلَمَّآ أَسۡلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلۡجَبِينِ ﴿103﴾
103. যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল।
وَنَٰدَيۡنَٰهُ أَن يَـٰٓإِبۡرَٰهِيمُ ﴿104﴾
104. তখন আমি তাকে ডেকে বললামঃ হে ইব্রাহীম
قَدۡ صَدَّقۡتَ ٱلرُّءۡيَآۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ ﴿105﴾
105. তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلۡبَلَـٰٓؤُاْ ٱلۡمُبِينُ ﴿106﴾
106. নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
وَفَدَيۡنَٰهُ بِذِبۡحٍ عَظِيمٖ ﴿107﴾
107. আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু।
وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِي ٱلۡأٓخِرِينَ ﴿108﴾
108. আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِبۡرَٰهِيمَ ﴿109﴾
109. ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ ﴿110﴾
110. এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ﴿111﴾
111. সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের একজন।
وَبَشَّرۡنَٰهُ بِإِسۡحَٰقَ نَبِيّٗا مِّنَ ٱلصَّـٰلِحِينَ ﴿112﴾
112. আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছি ইসহাকের, সে সৎকর্মীদের মধ্য থেকে একজন নবী।
وَبَٰرَكۡنَا عَلَيۡهِ وَعَلَىٰٓ إِسۡحَٰقَۚ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحۡسِنٞ وَظَالِمٞ لِّنَفۡسِهِۦ مُبِينٞ ﴿113﴾
113. তাকে এবং ইসহাককে আমি বরকত দান করেছি। তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মী এবং কতক নিজেদের উপর স্পষ্ট জুলুমকারী।
وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ﴿114﴾
114. আমি অনুগ্রহ করেছিলাম মূসা ও হারুনের প্রতি।
وَنَجَّيۡنَٰهُمَا وَقَوۡمَهُمَا مِنَ ٱلۡكَرۡبِ ٱلۡعَظِيمِ ﴿115﴾
115. তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে উদ্ধার করেছি মহা সংকট থেকে।
وَنَصَرۡنَٰهُمۡ فَكَانُواْ هُمُ ٱلۡغَٰلِبِينَ ﴿116﴾
116. আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
وَءَاتَيۡنَٰهُمَا ٱلۡكِتَٰبَ ٱلۡمُسۡتَبِينَ ﴿117﴾
117. আমি উভয়কে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব।
وَهَدَيۡنَٰهُمَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ ﴿118﴾
118. এবং তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করেছিলাম।
وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِمَا فِي ٱلۡأٓخِرِينَ ﴿119﴾
119. আমি তাদের জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে
سَلَٰمٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ﴿120﴾
120. মূসা ও হারুনের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ ﴿121﴾
121. এভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّهُمَا مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ﴿122﴾
122. তারা উভয়েই ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্যতম।
وَإِنَّ إِلۡيَاسَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ ﴿123﴾
123. নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল।
إِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهِۦٓ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿124﴾
124. যখন সে তার সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি ভয় কর না
أَتَدۡعُونَ بَعۡلٗا وَتَذَرُونَ أَحۡسَنَ ٱلۡخَٰلِقِينَ ﴿125﴾
125. তোমরা কি বা’আল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে।
ٱللَّهَ رَبَّكُمۡ وَرَبَّ ءَابَآئِكُمُ ٱلۡأَوَّلِينَ ﴿126﴾
126. যিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمۡ لَمُحۡضَرُونَ ﴿127﴾
127. অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতএব তারা অবশ্যই গ্রেফতার হয়ে আসবে।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِينَ ﴿128﴾
128. কিন্তু আল্লাহ তা’আলার খাঁটি বান্দাগণ নয়।
وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِي ٱلۡأٓخِرِينَ ﴿129﴾
129. আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয়ে রেখে দিয়েছি যে
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِلۡ يَاسِينَ ﴿130﴾
130. ইলিয়াসের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ ﴿131﴾
131. এভাবেই আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ﴿132﴾
132. সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত।
وَإِنَّ لُوطٗا لَّمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ ﴿133﴾
133. নিশ্চয় লূত ছিলেন রসূলগণের একজন।
إِذۡ نَجَّيۡنَٰهُ وَأَهۡلَهُۥٓ أَجۡمَعِينَ ﴿134﴾
134. যখন আমি তাকেও তার পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম
إِلَّا عَجُوزٗا فِي ٱلۡغَٰبِرِينَ ﴿135﴾
135. কিন্তু এক বৃদ্ধাকে ছাড়া; সে অন্যান্যদের সঙ্গে থেকে গিয়েছিল।
ثُمَّ دَمَّرۡنَا ٱلۡأٓخَرِينَ ﴿136﴾
136. অতঃপর অবশিষ্টদেরকে আমি সমূলে উৎপাটিত করেছিলাম।
وَإِنَّكُمۡ لَتَمُرُّونَ عَلَيۡهِم مُّصۡبِحِينَ ﴿137﴾
137. তোমরা তোমাদের ধ্বংস স্তুপের উপর দিয়ে গমন কর ভোর বেলায়
وَبِٱلَّيۡلِۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ ﴿138﴾
138. এবং সন্ধ্যায়, তার পরেও কি তোমরা বোঝ না
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ ﴿139﴾
139. আর ইউনুসও ছিলেন পয়গম্বরগণের একজন।
إِذۡ أَبَقَ إِلَى ٱلۡفُلۡكِ ٱلۡمَشۡحُونِ ﴿140﴾
140. যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ ٱلۡمُدۡحَضِينَ ﴿141﴾
141. অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন।
فَٱلۡتَقَمَهُ ٱلۡحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٞ ﴿142﴾
142. অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন।
فَلَوۡلَآ أَنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلۡمُسَبِّحِينَ ﴿143﴾
143. যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন
لَلَبِثَ فِي بَطۡنِهِۦٓ إِلَىٰ يَوۡمِ يُبۡعَثُونَ ﴿144﴾
144. তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।
۞فَنَبَذۡنَٰهُ بِٱلۡعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيمٞ ﴿145﴾
145. অতঃপর আমি তাঁকে এক বিস্তীর্ণ-বিজন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, তখন তিনি ছিলেন রুগ্ন।
وَأَنۢبَتۡنَا عَلَيۡهِ شَجَرَةٗ مِّن يَقۡطِينٖ ﴿146﴾
146. আমি তাঁর উপর এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ উদগত করলাম।
وَأَرۡسَلۡنَٰهُ إِلَىٰ مِاْئَةِ أَلۡفٍ أَوۡ يَزِيدُونَ ﴿147﴾
147. এবং তাঁকে, লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করলাম।
فَـَٔامَنُواْ فَمَتَّعۡنَٰهُمۡ إِلَىٰ حِينٖ ﴿148﴾
148. তারা বিশ্বাস স্থাপন করল অতঃপর আমি তাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
فَٱسۡتَفۡتِهِمۡ أَلِرَبِّكَ ٱلۡبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلۡبَنُونَ ﴿149﴾
149. এবার তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তোমার পালনকর্তার জন্যে কি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তাদের জন্যে কি পুত্র-সন্তান।
أَمۡ خَلَقۡنَا ٱلۡمَلَـٰٓئِكَةَ إِنَٰثٗا وَهُمۡ شَٰهِدُونَ ﴿150﴾
150. না কি আমি তাদের উপস্থিতিতে ফেরেশতাগণকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছি
أَلَآ إِنَّهُم مِّنۡ إِفۡكِهِمۡ لَيَقُولُونَ ﴿151﴾
151. জেনো, তারা মনগড়া উক্তি করে যে
وَلَدَ ٱللَّهُ وَإِنَّهُمۡ لَكَٰذِبُونَ ﴿152﴾
152. আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
أَصۡطَفَى ٱلۡبَنَاتِ عَلَى ٱلۡبَنِينَ ﴿153﴾
153. তিনি কি পুত্র-সন্তানের স্থলে কন্যা-সন্তান পছন্দ করেছেন
مَا لَكُمۡ كَيۡفَ تَحۡكُمُونَ ﴿154﴾
154. তোমাদের কি হল? তোমাদের এ কেমন সিন্ধান্ত
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿155﴾
155. তোমরা কি অনুধাবন কর না
أَمۡ لَكُمۡ سُلۡطَٰنٞ مُّبِينٞ ﴿156﴾
156. না কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন দলীল রয়েছে
فَأۡتُواْ بِكِتَٰبِكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ ﴿157﴾
157. তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব আন।
وَجَعَلُواْ بَيۡنَهُۥ وَبَيۡنَ ٱلۡجِنَّةِ نَسَبٗاۚ وَلَقَدۡ عَلِمَتِ ٱلۡجِنَّةُ إِنَّهُمۡ لَمُحۡضَرُونَ ﴿158﴾
158. তারা আল্লাহ ও জ্বিনদের মধ্যে সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে।
سُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿159﴾
159. তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِينَ ﴿160﴾
160. তবে যারা আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দা, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে না।
فَإِنَّكُمۡ وَمَا تَعۡبُدُونَ ﴿161﴾
161. অতএব তোমরা এবং তোমরা যাদের উপাসনা কর
مَآ أَنتُمۡ عَلَيۡهِ بِفَٰتِنِينَ ﴿162﴾
162. তাদের কাউকেই তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
إِلَّا مَنۡ هُوَ صَالِ ٱلۡجَحِيمِ ﴿163﴾
163. শুধুমাত্র তাদের ছাড়া যারা জাহান্নামে পৌছাবে।
وَمَامِنَّآ إِلَّا لَهُۥ مَقَامٞ مَّعۡلُومٞ ﴿164﴾
164. আমাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট স্থান।
وَإِنَّا لَنَحۡنُ ٱلصَّآفُّونَ ﴿165﴾
165. এবং আমরাই সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান থাকি।
وَإِنَّا لَنَحۡنُ ٱلۡمُسَبِّحُونَ ﴿166﴾
166. এবং আমরাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি।
وَإِن كَانُواْ لَيَقُولُونَ ﴿167﴾
167. তারা তো বলতঃ
لَوۡ أَنَّ عِندَنَا ذِكۡرٗا مِّنَ ٱلۡأَوَّلِينَ ﴿168﴾
168. যদি আমাদের কাছে পূর্ববর্তীদের কোন উপদেশ থাকত
لَكُنَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلۡمُخۡلَصِينَ ﴿169﴾
169. তবে আমরা অবশ্যই আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম।
فَكَفَرُواْ بِهِۦۖ فَسَوۡفَ يَعۡلَمُونَ ﴿170﴾
170. বস্তুতঃ তারা এই কোরআনকে অস্বীকার করেছে। এখন শীঘ্রই তারা জেনে নিতে পারবে
وَلَقَدۡ سَبَقَتۡ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلۡمُرۡسَلِينَ ﴿171﴾
171. আমার রাসূল ও বান্দাগণের ব্যাপারে আমার এই বাক্য সত্য হয়েছে যে
إِنَّهُمۡ لَهُمُ ٱلۡمَنصُورُونَ ﴿172﴾
172. অবশ্যই তারা সাহায্য প্রাপ্ত হয়।
وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ ٱلۡغَٰلِبُونَ ﴿173﴾
173. আর আমার বাহিনীই হয় বিজয়ী।
فَتَوَلَّ عَنۡهُمۡ حَتَّىٰ حِينٖ ﴿174﴾
174. অতএব আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
وَأَبۡصِرۡهُمۡ فَسَوۡفَ يُبۡصِرُونَ ﴿175﴾
175. এবং তাদেরকে দেখতে থাকুন। শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
أَفَبِعَذَابِنَا يَسۡتَعۡجِلُونَ ﴿176﴾
176. আমার আযাব কি তারা দ্রুত কামনা করে
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمۡ فَسَآءَ صَبَاحُ ٱلۡمُنذَرِينَ ﴿177﴾
177. অতঃপর যখন তাদের আঙ্গিনায় আযাব নাযিল হবে, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের সকাল বেলাটি হবে খুবই মন্দ।
وَتَوَلَّ عَنۡهُمۡ حَتَّىٰ حِينٖ ﴿178﴾
178. আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
وَأَبۡصِرۡ فَسَوۡفَ يُبۡصِرُونَ ﴿179﴾
179. এবং দেখতে থাকুন, শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
سُبۡحَٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلۡعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ ﴿180﴾
180. পবিত্র আপনার পরওয়ারদেগারের সত্তা, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র যা তারা বর্ণনা করে তা থেকে।
وَسَلَٰمٌ عَلَى ٱلۡمُرۡسَلِينَ ﴿181﴾
181. পয়গম্বরগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
وَٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ ﴿182﴾
182. সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত।